শীতে চুলের যত্ন: খুশকি,চুলের আগা ফাটা,চুল পড়া আর রুক্ষতা দুর করার সহজ ঘরোয়া উপায়।

0
220

শীতকালে মানেই হলো অন্যান্য ঋতু থেকে একটু ভিন্ন করে আলাদা করে তক্বের যত্ন নেয়া, পরিচর্যা করা। তবে এই শীতকালে ত্বকে যেমন অনেক সমস্যা দেখা দেয় তেমনি চুলের ও বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। শীতকালে চুলের আগা ফেটে যাওয়া, চুলের গোড়া নরম হওয়া,চুল ঝড়ে পড়া,খুশকি সমস্যা, মাথার ত্বকের ফাংগালস সমস্যা ইত্যাদি  এই সমস্যাগুলো বেশি বেড়ে যায়। শীতে ত্বকের যত্ন ও বেশি নেয়া হয়। তবুও এই সমস্যা গুলো দেখা যায় কম বেশি। চুলের যত্ন কম বেশি সকলে করেন। তবে অনেকে মনে করেন মেয়েদের হয়তো এই সমস্যা গুলো বেশি। মেয়েদের নয় ছেলেদের এই সমস্যা গুলো দেখা দেয়। এমনকি এই সমস্যাগুলো লোমে ও দেখা যায়। তাই মূল কথা হলো শীতে ত্বকের প্রত্যেকটি অংগের যত্ন নিয়ে আরো যত্নবান হতে হবে।

আসুন জেনে নেই শীতকালে চুলের যত্ন সম্পর্কে কিছু ধারণা

১।চুলের ঝড়ে যাওয়া হলো শীতকালে চুলের প্রধান সমস্যা। চুল ঝড়ে যায় তখন যখন চুলের গোড়া নরম থাকে। চুলে যখন খুশকি সমস্যা বেড়ে যায় তখন চুলের গোড়া নরম হয়ে যায়। চুলের গোড়া নরম হয়ে যায়। এক্ষেত্রে আগে ভালো করে চুলের তেল দিয়ে রাখতে হবে। পরে শ্যাম্পু দিয়ে চুল ভালোভাবে গোড়া থেকে ধুয়ে ফেলতে হবে। চুল ধুয়ে ফেললে খুশকি দূর হয়ে যাবে। খুশকি দূর হলে লোমকূপ গুলো পরিষ্কার হয়ে যাবে। পরিষ্কার হলে তবেই চুলের গোড়া শক্ত হবে। সপ্তাহে ২ থেকে ৩বার এইভাবে চুল পরিষ্কার করলে চুল সুন্দর,মসৃণ ও চুলের গোড়া পরিষ্কার ও শক্ত থাকবে। চুলে থাকবে প্রোটিনের মান।

শীতকালে চুলের যত্ন
শীতকালে চুলের যত্ন

২।চুল ভেজার কারণে অনেক সময় চুলে বেশি পড়ে যায়। অর্থাৎ আমরা যখন গোসল করে আসি তখন চুল ভেজা থাকে এই সময় আমরা অনেকে চুল আঁচড়ে ফেলি। এই ভেজা অবস্থায় চুলের গোড়া থাকে নরম। চুলের গোড়া নরম থাকার ফলে চুল খুব দ্রুত পড়ে যায়। তাই আগে আমাদের চুল শুকিয়ে ফেলতে হবে। প্রথমে আগে তোয়ালে দিয়ে ভালোভাবে চুলের পানি গুলো মুছে ফেলতে হবে। অর্থাৎ তোয়ালে দিয়ে পানি শুষে নিয়ে এবার চুলকে ভালোভাবে পেঁচিয়ে চুল কিছুক্ষণ বেঁধে রাখতে হবে। চুলকে তোয়ালের ভিতরের উষ্ণতায় কিছুটা শুকিয়ে গেলে এইবার চুল বের করে এনে চুল শুকাতে হবে। এছাড়া হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে চুল শুকাতে হবে। কখনোই ভেজা চুল ঝাপ্টে দিয়ে শুকাবেন না। এতে চুল ফেটে যায়।

শীতে চুলের পরিচর্যা
শীতে চুলের পরিচর্যা

৩।শীতকালে আরেকটি বিষয় চোখে পরে তা হলো চুলের আসল রং টা ম্লান হয়ে যাওয়া। চুল অনেক সময় সাদা হয়ে যায় চুল নিষ্প্রাণ হয়ে যায়। চুলে কালো রং টা শীতের শুষ্কতায় হাল্কা হয়ে যায়। এতে চুলের সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যায়। চুলের এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে অনেক চুলের রং করে থাকেন। তবে চুলের রং কোনো স্থায়িত্ব দেই না। তাও স্বাভাবিকভাবে কয়েকদিনের সৌন্দর্য রক্ষার জন্যে চুলের কালার করে থাকেন। তবে কালার করলেই হয় না। চুলের যত্ন ও নিতে হয়। চুলে কালার করার পর ঘন ঘন শ্যাম্পু করা যাবেনা। সপ্তাহে ২বার চুলে শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। এতে চুলের রুক্ষতাও হবেনা আর ভুলের রং ও বজায় থাকবে।

শীতে রুক্ষ চুলের যত্ন
শীতে রুক্ষ চুলের যত্ন

৪।যারা ঘন ঘন শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। তাদের প্রথমে আগে চুলের যত্ন নিতে হলে চুলের শ্যাম্পু অতিরিক্ত ব্যবহার বন্ধ করে নিতে হবে। অতিরিক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করার ফলে চুল নিষ্প্রাণ হয়ে যায়। চুলে শুষ্কতা দেখা দেয়। চুলে ফুলে যায়। চুল ভালো করে বসে না। তাই আগে শ্যাম্পুর ব্যবহার কমিয়ে আনতে হবে। চুল ফুলে গেলে চুল ভালোভাবে আঁচড়ানো যায় না। এতে করে চুল ভাগ করে নিয়ে হেয়ার স্প্রে নিয়ে চুলে লাগিয়ে বড় দাতের চিড়ুনি দিয়ে ভাগ করে করে আঁচড়াতে হবে। তারপর হেয়ার সিরাম দিয়ে চুল লাগিয়ে নিন। এরপরে দেখবেন চুলে ফিরে পাবে মসৃণতা।

শীতকালে চুল পড়ার কারণ
শীতকালে চুল পড়ার কারণ

শীতকালে যেহেতু আমাদের চুলের সমস্যা বেশি তাই চুলের সমস্যা সমাধানে আমাদের আরো বেশি যত্নবান হতে হবে। চুলের যত্ন নিলেই তবে চুল হবে সুন্দর। চুলে থাকবে মসৃণতা।তাই নিয়মিত বিভিন্ন উপায়ে চুলের যত্ন নিতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here