জেনে নিন প্রতিদিন শসা খাওয়ার উপকারিতা ,আছে অপকারিতাও

0
22
শশার খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

শসা অতি পরিচিত একটি সবজি… এটি সবজি হিসেবে পরিচিতো হলেও এটি মূলত এক ধরনের ফল…সালাদে, টক ঝাল ভর্তায় এবং রূপচর্চায় শসা ব্যবহার করা হয়…তবে শসার মধ্যে রয়েছে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন, মিনারেল এবং খনিজ উপাদান.. তাই শরীর সুস্থ রাখতে শসার উপকারিতা খুবই প্রভাব ফেলে ।

চলুন জেনে নিন প্রতিদিন শসা খাওয়ার উপকারিতা

১। শরীরে পানির ঘাটতি মেটাতে শসার উপকারিতাঃ

শরীরে পানির ঘাটতি মেটাতে শসার উপকারিতা

শসার মধ্যে প্রায় ৯৫% পানি থাকে.. তাই নিয়মিত যারা পরিমানমতো পানি খেতে পারে না তারা ১টি কিংবা ২টি শসা খেতে পারেন…শসাতে প্রচুর পরিমান পানি থাকায় এটি শরীরের পানি চাহিদা মিটাতে পারে।

২।  হজমে সহায়তা করেঃ

শসাতে আছে ফাইবার যা খাবার হজমে সহায়তা করে.. নিয়মিত শসা খেলে খাবার হজম হয় এবং কোষ্টকাঠিন্য দূর করা যায়..

৩। হাড় গঠনে শসার উপকারিতাঃ

শসাতে রয়েছে ভিটামিন কে… ভিটামিন কে হার গঠনে সহায়তা করে হারকে মজবুত ও শক্ত করে…তাছাড়াও রয়েছে শসাতে ক্যালসিয়াম.. ক্যালসিয়ামও হারের পুষ্টি জুগিয়ে হারকে মজবুত রাখে।

ত্বক ফর্সা করার উপায়

৪। হার্ট সুস্থ রাখতে শসার উপকারিতাঃ

শসাতে পানি বেশি থাকার কারনে তাতে কোলেস্টেরলের পরিমান কম থাকে..তাই নিয়মিত সালাদ হিসেবে শসা খেলে কোলেস্টেরল এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং হার্ট সুস্থ রাখে।

৫। কিডনির সমস্যা দূর করে শসাঃ

শসাতে প্রচুর পরিমান পানি থাকে তাই শসা খেলে ইউরিনের পরিমান ঠিক থাকে… এতে করে নিয়মিত শসা খেলে কিডনির সমস্যা দূর করা যায়

৬। রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণ করতে শসার উপকারিতাঃ

শসার মধ্যে রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম এবং পটাশিয়াম.. শসা খেলে এই খনিজ উপাদান শরীরে প্রবেশ করে শরীরে লবনের পরিমান কমাতে সাহায্য করে.. এতে করে শরীরে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে থাকে।

৭। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে শসার উপকারিতাঃ

 শসাতে প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং মিনারেলস শরীরে শর্করা পরিমান বাড়তে দেয়না…তাই নিয়ম করে সালাদে শসা খেলে রক্তে শর্করার পরিমান ঠিক রেখে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে রাখে।

৮। ওজন কমাতে শসার উপকারিতাঃ

শসাতে প্রচুর পরিমান পানি থাকে… কিনতু ক্যালরি খুবই কম থাকে..তাই ওজন কমানোর জন্য শসা সহায়তা করে…শসা খাওয়ার ফলে শরীরে অতিরিক্ত চর্বি ভেঙে যায় এবং এতে করে শরীরে ওজন কমানো সম্ভব হয়।

৯। ভিটামিনের ক্ষতি পূরনঃ

শসাতে রয়েছে ভিটামিন এ, বি, সি..শসা খেলে শরীরে এসকল ভিটামিনের চাহিদা পূরন হয় এবং শরীরকে কর্মক্ষম রাখে।

১০। রূপচর্চায় শসার উপকারিতাঃ

প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে শসা রূপচর্চায় বেশ ভালো উপকারি উপাদান…শসাতে পানি বেশি থাকাই এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এর পরিমান বেশি থাকে যা ত্বককে উজ্জল এবং হাইড্রেটেট রাখে

শসার অপকারিতাঃ

অতিরিক্ত কোনো কিছুই শরীরের জন্য ভালো না…শসা উপকারী হলেও অতিরিক্ত পরিমানে খেলে এর অপকারিতা সাধন হয়…অতিরিক্ত শসা খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর।  শসাতে প্রচুর পরিমান পানি থাকে..তাই অতিরিক্ত শসা খেলে ইউরিনের পরিমান বেড়ে যায়… ইউরিনের পরিমান বেড়ে গেলে শরীর থেকে মূল্যবান খনিজ উপাদানও ইউরিনের সাথে বেড় হয়ে যায়। শসাতে আছে পটাশিয়াম… শসা বেশি খেলে পটাশিয়ামের পরিমান বেড়ে যায় এবং কিডনিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা থাকে..  কিডনিজনিত রোগে ভূগলে শসা খাওয়া যাবেনা..কারন শসাতে প্রচুর পরিমান পানি থাকে কিন্তু কিডনি সমস্যাজনিত রোগীদের নিয়ম করে পানি খেতে হয়…শসাতে মিনারেলস ভিটামিন থাকলেও এটি খেলে পেটে গ্যাস জমতে পারে..তাই গ্যাসট্রিক জনিত সমস্যায় ভুগলে শসা কম খেতে হবে এবং তা খালি পেটে খাওয়া যাবেনা।

শসা ভিটামিন মিনারেলসে পরিপূর্ণ নিয়ম করে শসা খেলে শরীর হাইড্রেট রাখবে কিনতু নিয়মের বাইরে বেশি পরিমান খাওয়া যাবেনা সব কিছুরই ভালো এবং খারাপ দিক রয়েছে ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here